উত্তরবঙ্গের মাদক সাম্রাজ্যের কর্তা শহীদ রানা টিপুর রক্তচক্ষু উপেক্ষা করতে পারছে না চাঁপাইনবাবগঞ্জের পুলিশ। টিপুর ইশারায় র্যাব-পুলিশের সোর্স পিন্টু হত্যার দেড় মাস পার হলেও, মামলার প্রধান আসামি টিপু ও তার দলবল এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে। রোববার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পিন্টুর পরিবারের মানববন্ধনে উঠে আসে—মৃত্যুর আগে পিন্টু হত্যাকারী শাহিদ রানা টিপু, সাহারুল ইসলাম কালু, মোবারক গুধা, মিজানুর রহমান মিজান, আজিজুল হকসহ ২০ জনের নাম উল্লেখ করলেও, টিপুর সিন্ডিকেট পিন্টুর স্ত্রীকে টাকার লোভ দেখিয়ে মামলা ম্যানিপুলেট করতে চাইছে। এখন সেই তালিকাভুক্ত আসামিরাই পিন্টুর স্ত্রী পারভিনকে ৩৫ লক্ষ টাকার প্রলোভন দিয়ে জবানবন্দি পরিবর্তন ও নিরীহ গ্রামবাসীর বিরুদ্ধে পাল্টা মামলার ফন্দি আঁটছে!
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার চরবাগডাঙ্গায় মাদক সম্রাট ও সন্ত্রাসের গডফাদার শাহিদ রানা টিপু চেয়ারম্যান ও তার সন্ত্রাসী বাহিনীর হাতে নৃশংসভাবে খুন হওয়া আব্দুল হাকিম পিন্টুর খুনিদের দ্রুত গ্রেফতার ও শাস্তির দাবীতে মানববন্ধন করেছে ভূক্তভোগী পরিবার ও নির্যাতনের শিকার এলাকাবাসী। রবিবার (৯ মার্চ) সকাল সাড়ে ১০টায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মসুচীতে চরবাগডাঙ্গার খুনের শিকার পিন্টুর পরিবার ও একই এলাকায় একাধিক হত্যাকান্ডের শিকার পরিবার এবং এলাকার নির্যাতিত-নিপীড়িত সাধারণ নারী-পুরুষ ও শিশুরা অংশ নেয়। মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, নিহত পিন্টুর বাবা মামলার বাদী মোঃ হুমায়ন, পিন্টুর বোন মোসাঃ জান্নাতুন খাতুন, চাচা রফিকুল ইসলাম ও রবিউল ইসলাম, আরেক হত্যাকান্ডের শিকার জিয়াউর রহমানের স্ত্রী বাদী মোসাঃ মিলিয়ারা, স্থানীয় শওকত আলীসহ অন্যরা।

বক্তারা বলেন, পিন্টু হত্যার প্রায় দেড়মাস পার হলেও পুলিশ মামলায় এপর্যন্ত ৩ জনকে গ্রেফতার করলেও মূল হোতা শাহিদ রানা টিপু চেয়ারম্যান ও তার সন্ত্রাসী বাহিনীর সক্রিয় সন্ত্রাসীরা এখনো গ্রেফতার হয়নি। অন্যদিকে, টিপু চেয়ারম্যান ও তাঁর সন্ত্রাসীবাহিনীর লোকজন মামলা তুলে নিতে নানাভাবে হুমকি দেয়া অব্যাহত রেখেছে। ভূক্তভোগী পরিবার আতংকে দিন কাটাচ্ছে। খুনিরা গ্রেফতারনা হওয়ায় চরম হতাশা এবং নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে পরিবারগুলো। মাদক সম্রাট ও সন্ত্রাসের গডফাদার শাহিদ রানা টিপু চেয়ারম্যান ও তাঁরসন্ত্রাসী বাহিনীর সদস্য পিন্টু হত্যা মামলার আসামীদের দ্রুত গ্রেফতার ও কঠোর শাস্তির দাবী জানান বক্তারা।
কেস ম্যানিপুলেশনের চেষ্টা:
পিন্টুর আত্মীয়রা অভিযোগ করেন, টিপু চক্র ৩৫ লক্ষ টাকা দিয়ে পিন্টুর স্ত্রীকে চাপ দিচ্ছে মামলা তুলে নিতে। পাশাপাশি, ড্রাগ ডিলার টিপু, সাহারুল কালু, মিজানুর রহমান মিজান, মোবারক গুধা ও তাবারক ঝিনুকের নেতৃত্বে নিরীহ ৮ গ্রামবাসীর নামে মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। উদ্দেশ্য একটাই—হত্যাকাণ্ডের তদন্তকে অন্ধকারে ঠেলে দেওয়া!
জাতীয় স্তরে আলোচনার দাবি:
পরিস্থিতি এখন শুধু চাঁপাইনবাবগঞ্জের নয়, মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধে রাষ্ট্রের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। মানববন্ধনে নিহতের বাবা হুমায়ন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেছেন, “আমার ছেলের খুনিরা যদি আইনের হাত থেকে বেঁচে যায়, তাহলে আমরা সাধারণ মানুষের ন্যায়বিচার কোথায় পাব?”
