
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের স্টেট সিনেটে আবারও নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত শেখ মুজাহিদুর রহমান চন্দন। শেখ রহমান নামে পরিচিত এই রাজনীতিক ডেমোক্র্যাটিক পার্টি থেকে নির্বাচনে অংশ নিয়ে জয়ী হয়েছেন। সাধারণ নির্বাচনে তাঁর কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন তিনি।
শেখ রহমানের বাড়ি বাংলাদেশের কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলার সরারচর গ্রামে। তাঁর এই অর্জনে আনন্দ ও গর্বের আবহ তৈরি হয়েছে পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে।
জর্জিয়া স্টেট সিনেটের নির্বাচনি ফলাফল অনুযায়ী, অঙ্গরাজ্যটির ডিস্ট্রিক্ট-৫ থেকে নির্বাচিত হয়েছেন শেখ রহমান। প্রাথমিক ফলাফলে তাঁর নামে ৩৫ হাজার ১০১ ভোট দেখানো হয়েছে। তবে সাধারণ নির্বাচনে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় তাঁর জয় নিশ্চিত হয়।
এর আগে গত ১৯ মে অনুষ্ঠিত ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রাথমিক নির্বাচনে রবিন ম্যাককয়কে পরাজিত করে দলের মনোনয়ন নিশ্চিত করেন তিনি। ওই নির্বাচনে শেখ রহমান ৬ হাজার ১৮৮ ভোট পান। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ম্যাককয় পান ৫ হাজার ১৬৬ ভোট।
২০১৮ সালে প্রথমবার জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের স্টেট সিনেটর নির্বাচিত হন শেখ রহমান। সে সময় তিনি অঙ্গরাজ্যটির প্রথম মুসলিম ও বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সিনেটর হিসেবে পরিচিতি পান। এরপর থেকে সিনেটের ৫ নম্বর আসনের প্রতিনিধিত্ব করে আসছেন তিনি।
শেখ রহমান কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলার বীর মুক্তিযোদ্ধা নজিবুর রহমানের ছেলে। তাঁর বাবা ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতের আগরতলায় ‘জয় বাংলা যুব শিবির’-এর ক্যাম্প সুপারভাইজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
তিনি কিশোরগঞ্জ-৫ (বাজিতপুর-নিকলী) আসনের সংসদ সদস্য শেখ মজিবুর রহমান ইকবালের বড় ভাই। গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জয়ী হন শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল।
শেখ রহমানের এই সাফল্যে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন তাঁর মা সৈয়দা হাজেরা খাতুন। ছেলের বিজয়ে আনন্দিত মা আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ‘আমার ছেলে একদিন আমেরিকার রাষ্ট্রপতি হবে।’
ছোট ভাই ও সংসদ সদস্য শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল বলেন, বড় ভাইয়ের এই বিজয়ে তাঁরা আনন্দিত। তিনি, তাঁদের মা ও পরিবারের অন্য সদস্যরা শেখ রহমানের দেশে ফেরার অপেক্ষায় রয়েছেন। মাসের শেষ দিকে তাঁর বাংলাদেশে আসার কথা রয়েছে।
শেখ রহমানের ভাতিজা শেখ রাফিদ রহমান জানান, জর্জিয়ায় তাঁর চাচার সিনেটর নির্বাচিত হওয়ায় পরিবার ও এলাকাবাসী গর্বিত। একজন বাংলাদেশি মুসলিম হিসেবে এই অর্জনের পথ সহজ ছিল না। ভবিষ্যতে তিনি আরও বড় দায়িত্বে অধিষ্ঠিত হয়ে দেশের মুখ উজ্জ্বল করবেন বলে প্রত্যাশা তাঁদের।
১৯৮১ সালে উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান শেখ রহমান। পরে জর্জিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যবসায় প্রশাসনে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। তিন ভাই ও চার বোনের মধ্যে তিনি দ্বিতীয়।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের নির্বাচনেও রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী লিসা ব্যাবেজকে পরাজিত করে জর্জিয়া স্টেট সিনেটের ৫ নম্বর আসনে নির্বাচিত হয়েছিলেন শেখ মুজাহিদুর রহমান।
