ফাইল ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক

চাঁপাইনবাবগঞ্জের চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়নে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলায় নিহত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সোর্স আব্দুল হাকিম পিন্টুর হত্যাকাণ্ড নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। দেড় মাস পেরিয়ে গেলেও এই হত্যাকাণ্ডের মূল আসামিরা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে। অথচ তাদের অনেকে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। মামলার প্রধান আসামি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত শীর্ষ মাদক সম্রাট ও একাধিক হত্যা মামলার আসামি, ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী নেতা শহীদ রানা টিপু।

নিহত পিন্টুর পরিবারের দাবি, শহীদ রানা টিপুর প্রত্যক্ষ মদদেই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। তার সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছে চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সাহারুল আলম কালু, কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান মিজান, আওয়ামী লীগ নেতা আজিজুল ইসলাম, সদর উপজেলা আ.লীগের শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক সাবেক সম্পাদক আশরাফ আলীসহ আরও কয়েকজন। অভিযোগ রয়েছে, পিন্টু আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে টিপুর মাদক সাম্রাজ্যের গোপন তথ্য সরবরাহ করায় তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়।

গত ১২ জানুয়ারি সন্ধ্যায় পিন্টুকে কুপিয়ে মারাত্মকভাবে আহত করা হয়। গুরুতর অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে, ১০ দিন পর সাময়িক সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরেন তিনি। কিন্তু একদিন পর ফের অসুস্থ হয়ে মেডিকেলে নিলে ২৩ জানুয়ারি মৃত্যুবরণ করেন। ২৪ জানুয়ারি, নিহতের বাবা হুমায়ুন বাদী হয়ে সদর মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। এতে প্রধান আসামি করা হয় শহীদ রানা টিপুকে। এজাহারে আরও ২০ জনের নাম উল্লেখ করা হয়, অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকেও আসামি করা হয়।

মামলার এজাহারনামীয় মূল আসামীরা হলেন: চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়নের কটাপাড়ার আবু বক্কর ঝাটুর ছেলে আ.লীগ নেতা শাহিদ রানা টিপু (৫০), গিধনীপাড়ার মৃত সাইদুর রহমানের ছেলে মোঃ মোবারক হোসেন গুধা (৩৫), বাখের আলী টিকলিচরের মোঃ জিল্লুর রহমান গাজুর ছেলে আজিজুল হক (৪০), গোঠাপাড়ার মঞ্জুর হোসেনের ছেলে মোঃ জাহাঙ্গীর (৩৫), এবং কটাপাড়ার আবু বক্কর ঝাটুর ছেলে মোঃ সাহারুল ইসলাম কালু (৪২), চাকপাড়ার মোঃ রফিকুল ইসলামের ছেলে মোঃ মিজানুর রহমান মিজান (৩৫)। এই আসামীরা স্পষ্টভাবে মামলার কেন্দ্রীয় চরিত্র।

হত্যার দেড় মাস পার হলেও, মামলার প্রধান আসামিরা দিব্যি প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, পুলিশের একাংশের সাথে সমন্বয় করেই এই আসামিরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকছে। টিপু শুধু পিন্টু হত্যাকাণ্ডের মাস্টারমাইন্ড নন, তিনি যুবলীগ নেতা জেম হত্যাসহ চারটি হত্যাকাণ্ডের আসামি।

পিন্টুর পরিবার জানায়, টিপুর সন্ত্রাসীরা এখনো হুমকি দিচ্ছে— ‘একজনকে সরিয়েছি, আরও সরাবো! প্রশাসন আমাদের কিছুই করতে পারবে না!’ এমন হুমকি প্রতিনিয়ত শুনতে হচ্ছে নিহতের স্বজনদের।

পিন্টুর পরিবার ও এলাকাবাসী প্রশ্ন তুলেছে— যেখানে সরকার মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে, সেখানে এই শীর্ষ মাদক সম্রাট ও তার সহযোগীরা এখনো গ্রেফতার হচ্ছে না কেন? পুলিশের নিরবতা কি টিপুর প্রভাবের ফল?

পুলিশ জানিয়েছে, তিনজন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং মামলার তদন্ত চলছে। তবে স্থানীয়দের মতে, প্রধান আসামিরা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে। এক পুলিশ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘শহীদ রানা টিপুর প্রভাব অনেক দূর পর্যন্ত বিস্তৃত, ফলে তাকে গ্রেফতার করা কঠিন হয়ে পড়েছে।’

এদিকে, নিহতের স্বজনরা প্রশাসনের কাছে দ্রুত দোষীদের গ্রেফতার করে শাস্তির আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছে। বিচার না হলে, সাধারণ জনগণের নিরাপত্তা কি নিশ্চিত হবে? নাকি ক্ষমতার ছায়ায় আরও হত্যাকাণ্ড ঘটতে থাকবে?